
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে বাড়ছে ডেটা সেন্টারের জ্বালানি চাহিদা। এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণও বাড়ছে। এই দ্বিমুখী বাস্তবতার মধ্যে এআইকে জলবায়ু সংকট মোকাবিলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অঙ্গীকার করেছে তুরস্ক।
ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘের এ বছরের জলবায়ু সম্মেলন – কপ ৩১ এর আয়োজক তুরস্ক ‘আনতালিয়া এআই অঙ্গীকার’ চালু করেছে। সম্মেলনটি চলতি মাসেই দেশটির উপকূলীয় শহর আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। অঙ্গীকারটির লক্ষ্য হলো এআইয়ের মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবিলায় উদ্যোগ নেওয়া। তবে এতে কোন কোন দেশ যুক্ত হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার নির্মাতা যুক্তরাষ্ট্রও বর্তমানে কপ প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে।
ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের প্রধান তথ্য ও এআই কর্মকর্তা ইভান টাকোভস্কি বলেন, ‘আনতালিয়া এআই অঙ্গীকার’ এআইয়ের জলবায়ু-সংক্রান্ত দুই দিকই তুলে ধরছে। তার মতে, উদ্যোগটি সঠিক পথে এগোনোর ইঙ্গিত দিলেও দেশ ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার কার্যকর ব্যবস্থা এতে নেই।
ব্লুমবার্গের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো দ্রুত ডেটা সেন্টার চালু করছে। এসব কেন্দ্রের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে নতুন গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রও তৈরি হচ্ছে। ফলে ডেটা সেন্টার গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের বড় উৎস হয়ে উঠছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবহারে ডেটা সেন্টারের অংশ দ্বিগুণের বেশি হতে পারে।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের নির্বাহী সচিব সাইমন স্টিয়েল গত মাসে বলেন, এআইয়ের বিপুল জ্বালানি চাহিদা জীবাশ্ম জ্বালানির দূষণ বাড়াচ্ছে। এআই খাতের নেতাদের এখন সতর্ক অবস্থানে থাকা প্রয়োজন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ুবিষয়ক কমিশনার ওপকে হুকস্ট্রা এক সাক্ষাৎকারে অঙ্গীকারটির কিছু দিককে ‘আকর্ষণীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো পর্যালোচনা করছে।
