
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নির্ধারিত কয়েকটি নির্বাচনী কর্মসূচি হঠাৎ বাতিলের ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। সম্ভাব্য সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে মার্কিন সাধারণ নাগরিকদেরও বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে হতে পারে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ চালুর কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনার ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানকে ঘিরে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সামরিক স্বার্থের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফিও সতর্ক করেছেন, সংঘাত আরও বাড়লে মার্কিন সেনারা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
যুদ্ধে কি ডাকা হতে পারে সাধারণ নাগরিকদের?
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হলে স্বেচ্ছাসেবী সেনাদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের প্রশ্ন সামনে আসতে পারে। স্বেচ্ছায় পর্যাপ্তসংখ্যক মানুষ সেনাবাহিনীতে যোগ না দিলে সরকার বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বা কনস্ক্রিপশন চালুর কথা বিবেচনা করতে পারে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রে এমন ব্যবস্থা চালু ছিল।
১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে লটারি পদ্ধতিতে সেনা নিয়োগের ব্যবস্থা চালু করা হয়। সে সময় ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়সী পুরুষদের জন্মতারিখের ভিত্তিতে লটারির মাধ্যমে সামরিক বাহিনীতে যোগদানের জন্য বাছাই করা হতো। যাদের জন্মতারিখ আগে নির্বাচিত হতো, তাদের সেনাবাহিনীতে ডাকার সম্ভাবনাও আগে থাকত।
তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে এই ব্যবস্থা চালুর কোনো ঘোষণা নেই। দেশটির সামরিক বাহিনী ১৯৭৩ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী অধিকাংশ পুরুষ নাগরিক ও অভিবাসীর সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেমে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তবে এই নিবন্ধন সামরিক বাহিনীতে যোগদানের নির্দেশ নয়; প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে নিয়োগের জন্য সম্ভাব্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির একটি ব্যবস্থা।
যুদ্ধে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা কতটা?
প্রতিবেদনে সামরিক কৌশল বিশ্লেষক ক্রিস্টোফার লির বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তার মতে, ভিয়েতনাম যুদ্ধে প্রায় ৯ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ লাখ পুরুষকে বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে নেওয়া হয়েছিল, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ।
তবে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ধরন বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের প্রয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন তিনি। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ ও বিমান অভিযানই সংঘাতের প্রধান অংশ হতে পারে। ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
যুক্তরাজ্যেও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা
প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের সামরিক প্রস্তুতির বিষয়টিও উঠে এসেছে। দেশটির চারটি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিনের মধ্যে তিনটি একই সময়ে সমুদ্রে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে দ্য টাইমস। এমন ঘটনা বেশ বিরল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে সেনাবাহিনীর রিজার্ভে যোগ দেওয়ার জন্য পুরুষদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করা হয়েছে। সাবেক ব্রিটিশ সেনাপ্রধান লর্ড ড্যানাটের মতে, বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে প্রথমে সেনাবাহিনীর রিজার্ভ সদস্যদের কাজে লাগানো হতে পারে। এরপর নিয়মিত রিজার্ভ সদস্যদের ফিরিয়ে আনা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্য— কোনো দেশই বর্তমানে সাধারণ নাগরিকদের জন্য নতুন করে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ চালুর ঘোষণা দেয়নি। ফলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা এবং সাধারণ নাগরিকদের যুদ্ধে পাঠানোর আলোচনা এখনো সম্ভাবনা ও বিশ্লেষণের পর্যায়েই রয়েছে।
