
একদিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। আগের দিন ২ শতাংশের বেশি বাড়ার পর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম কিছুটা কমেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষা এবং সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বর ডেলিভারির স্বর্ণের ফিউচার মূল্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৩৬ ডলার ৩০ সেন্টে নেমেছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, গত সপ্তাহে বড় ধরনের দরপতনের পর স্বর্ণের বাজার এখনো স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করছে। বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা প্রচলিত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ কেনার পরিবর্তে অন্য বাজারের লোকসান ও মার্জিন কলের চাপ সামলাতে সহজে নগদে রূপান্তর করা যায়—এমন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ বিক্রি করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রবণতা স্বর্ণের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নজর রয়েছে বিনিয়োগকারীদের। ইরানের পক্ষ থেকে সোমবার জানানো হয়েছে, আট মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এর আগে কাতারের মধ্যস্থতায় কয়েক দিন ধরে ইরানের আলোচনা হলেও প্রস্তাবে পরিবর্তন এসেছে, তবে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
এদিকে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি কমেছে। তবে জ্বালানির দাম বেশি থাকলে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ দীর্ঘ সময় সুদের হার বেশি রাখবে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়। সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় উচ্চ সুদের পরিবেশে স্বর্ণ ধরে রাখার আকর্ষণ কমে যায়।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে বলে বাজারে ৭৪ শতাংশ সম্ভাবনা দেখা হচ্ছে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৪৯ ডলার ৭১ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৪৬ ডলার ৮০ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৯৫৩ ডলার ৬৪ সেন্ট হয়েছে।
