
আইফোনের কণ্ঠনির্ভর সহকারী সিরিকে নতুন করে সাজিয়েছে অ্যাপল। নতুন সংস্করণে সিরি শুধু প্রশ্নের উত্তর দেবে না, আইফোনের পর্দায় কী আছে তা বুঝে বিভিন্ন অ্যাপে কাজও করতে পারবে। ব্যবহারকারীর বার্তা, ক্যালেন্ডারসহ বিভিন্ন তথ্য কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুবিধাও থাকবে এতে।
সিরির মূল ধারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ড্যাগ কিটলস ও অ্যাডাম শেয়ার। তাদের সঙ্গে টম গ্রুবার ২০০৭ সালে একটি নতুন উদ্যোগ শুরু করেন। এর আগে তারা স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে এমন একটি প্রযুক্তির ধারণা নিয়ে কাজ করেছিলেন। যার লক্ষ্য ছিল প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিনের মতো শুধু তথ্য খোঁজা নয় ব্যবহারকারীর হয়ে কাজ করে দেওয়া।
শেয়ার এই ধারণাকে ‘ডু ইঞ্জিন’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। অর্থাৎ কোনো তথ্য খুঁজে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারকারী যা করতে চান সেটিও করে দেওয়াই ছিল তাদের লক্ষ্য।
নতুন সংস্করণে সেই চিত্র বদলানোর চেষ্টা করছে অ্যাপল। এখন সিরি আইফোনের পর্দায় থাকা তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন অ্যাপ পরিচালনা করতে পারবে। ব্যবহারকারীর বার্তা, ক্যালেন্ডার ও অন্যান্য অ্যাপের তথ্যও কাজে লাগাতে পারবে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে নতুন সিরির পরীক্ষামূলক সংস্করণ ব্যবহার করে দেখা হয়েছে, এটি বার্তা অ্যাপে থাকা তথ্য থেকে আসন্ন দাঁতের চিকিৎসার সময়সূচি খুঁজে বের করতে পারে। বন্ধুর পাঠানো বার্তায় থাকা একটি ব্যান্ডের বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্যও বের করতে পারে। এমনকি ইনস্টাগ্রামে পাওয়া একটি খাবারের রেসিপি পরে দেখার জন্য সিরির সঙ্গে যুক্ত করেও রাখতে পারে।
ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার জন্য অ্যাপল ‘প্রাইভেট ক্লাউড কম্পিউট’ ব্যবস্থা ব্যবহার করে। যেসব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজ আইফোনে সরাসরি করা সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্যের নির্দিষ্ট অংশ অ্যাপলের সার্ভারে পাঠানো হয়।
তবে নতুন সিরির সামনে শুধু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জই নেই। ব্যবহারকারী যদি সিরিকে দিয়েই কেনাকাটা, রেস্তোরাঁয় বুকিং বা ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে শুরু করেন তাহলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাপের ব্যবহার কমে যেতে পারে। সিরি, জেমিনি বা চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহকারী ব্যবহারকারীর হয়ে সরাসরি কাজ করতে পারলে তাদের আর প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা অ্যাপ খুলতে নাও হতে পারে।
সিরির অন্যতম নির্মাতা ড্যাগ কিটলসের মতে, এতে বিভিন্ন অ্যাপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠানই চায় না, ব্যবহারকারীরা তাদের তৈরি পদ্ধতির বদলে অ্যাপলের তৈরি নতুন ব্যবস্থায় তাদের সেবা ব্যবহার করুক।
তবে সিরির নির্মাতাদের কাছে মূল লক্ষ্য এখনো একই। কিটলস বলেন, ১৫ বছর আগে যে ধারণা নিয়ে সিরি তৈরি হয়েছিল সেই ধারণার কোনো পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ সেটিকে পুরোপুরি বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি। নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সিরি সেই পুরোনো লক্ষ্য পূরণের দিকে কতটা এগোতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
