ইতিহাস ও ভ্রমণের ভিডিওতে প্রায় ৬ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার, সফলতার শীর্ষে সালাহউদ্দীন সুমন

চাকরি করে সালাহউদ্দীন সুমন যা উপার্জন করতেন, এখন তার চেয়ে ৭ থেকে ৮ গুণ বেশি আয় করেন

এম আর জান্নাত স্বপন
এম আর জান্নাত স্বপন
অতিথি প্রতিবেদক
এম আর জান্নাত স্বপন একজন বাংলাদেশী সাংবাদিক, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। ২০০০ সালে স্কুল জীবন থেকে আঞ্চলিক পত্রিকায় তার সাংবাদিকতা শুরু। তিনি পোশাক শিল্পের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ত্যাগ করে...
- অতিথি প্রতিবেদক
4 Min Read

নিশ্চিত সাংবাদিকতার পেশা ছেড়ে বর্তমানে একজন সফল কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন সালাহউদ্দীন সুমন। ইউটিউবে ইতিহাস, ভ্রমণ ও তথ্যবহুল বাংলা কনটেন্ট তৈরি করে ইউটিউবে প্রায় ৩ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার এবং ফেসবুকে প্রায় সাড়ে ৩ মিলিয়ন ফলোয়ারের  বেশি মানুষের মন জয় করেছেন। আদম পাহাড়ে পায়ের ছাপ ভিডিওতে ইউটিউবে পেয়েছেন ১৪ মিলিয়ন ভিউ। বর্তমানে তাঁর মাসিক আয় সর্বনিম্ন ৩ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত।

সালাউদ্দিন সুমনের পরিচয়

বগুড়ার আদমদীঘির ছেলে সুমন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় পড়াশোনা শেষে একাধিক গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৩ সালে ঢাকায় এসে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু ২০২১ সালে তিনি নিশ্চিত পেশা ছেড়ে পুরোপুরি কনটেন্ট ক্রিয়েশনের অনিশ্চিত পথে হাঁটেন।

ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও দেখতে গিয়ে সুমনের মাথায় আসে বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে কিছু করার
ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও দেখতে গিয়ে সুমনের মাথায় আসে বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে কিছু করার। চাকরি ছেড়ে সুমন এখন পুরোদস্তুর কনটেন্ট ক্রিয়েটর।

ইউটিউবার হওয়ার অনুপ্রেরণা

বাড়তি রোজগারের খোঁজে থাকা সুমন একদিন ভাবলেন, স্ক্রিপ্ট লেখা, ভিডিওগ্রাফি, ভয়েসওভার ও সম্পাদনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কেন তিনি নিজে কনটেন্ট তৈরি করতে পারবেন না? এরপর টানা দুই মাস গবেষণা করে তিনি বুঝতে পারেন, ভ্রমণবিষয়ক ভিডিওতে স্থানের ঐতিহাসিক দিকটি প্রায় অনুপস্থিত। এই ভাবনা থেকেই তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ শুরু করেন।

তাঁর প্রথম অনুসন্ধানী কাজ ছিল মীর জাফরের বংশধরদের খুঁজে বের করা। এই অনুসন্ধানের সূত্র ধরেই তিনি ভারতের মুর্শিদাবাদ যান। মুর্শিদাবাদের একটি ভিডিও প্রকাশ করার পরই তাঁর চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার বেড়ে যায়। দ্রুতই ইউটিউব থেকে তাঁর আয় চাকরির বেতনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হতে শুরু করে।

বাঁকবদল ও আত্মবিশ্বাস

ইতিহাস-ঐতিহ্য আর মানুষের জীবনযাপন প্রণালি নিয়ে কিছু একটা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কতোটা কী হচ্ছে, জানি না। তবে প্রতিনিয়তই শিখছি। এই কাজ করতে এসে বহু মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা পেয়েছি আমি- সালাহউদ্দীন সুমন
ইতিহাস-ঐতিহ্য আর মানুষের জীবনযাপন প্রণালি নিয়ে কিছু একটা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কতোটা কী হচ্ছে, জানি না। তবে প্রতিনিয়তই শিখছি। এই কাজ করতে এসে বহু মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা পেয়েছি আমি- সালাহউদ্দীন সুমন

যে চ্যানেলে সুমন কাজ করতেন, সেখান থেকে শর্ত দেওয়া হয়—সাংবাদিকতা ও ইউটিউবিং একসঙ্গে করা যাবে না। সে সময় ইউটিউব থেকে বেশি আয় হওয়ায় এবং পেশাটিতে পূর্ণ মনোযোগ দিতে চেয়ে সুমন ২০২১ সালের জুলাই মাসে দীর্ঘদিনের চাকরি ছেড়ে দেন। যদিও তাঁর শিক্ষক বাবা প্রথমে এ সিদ্ধান্তে একমত হতে পারেননি। পরে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের চাকরি পেয়েও তিনি ৯ মাস পর ২০২২ সালের মাঝামাঝি পুরোপুরি কনটেন্ট ক্রিয়েশনের জন্য সেই চাকরিও ছেড়ে দেন।

সুমন জানান, সাংবাদিকতা করে তিনি যা উপার্জন করতেন, এখন তার চেয়ে ৭-৮ গুণ বেশি আয় করেন। ইউটিউব থেকে আয়ের জন্য চ্যানেলকে মনিটাইজেশনের শর্ত পূরণের পর প্রতি মাসের শেষ নাগাদ অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পরামর্শ

তাঁর সবচেয়ে প্রিয় স্থান হলো রাজশাহীর ছোট চরখানপুর গ্রাম, যার তিন দিকে ভারত। এই পদ্মাপারের গ্রামটির ২৮ টিরও বেশি ভিডিও তিনি চ্যানেলে আপলোড করেছেন।

ভবিষ্যতে সুমন তথ্যচিত্র বা ডকুমেন্টারি তৈরির জন্য কথাচিত্র কমিউনিকেশন নামে একটি প্রোডাকশন হাউস গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি তিনি ‘সালাহউদ্দীন সুমন একাডেমি’ নামে প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েশনের ওপর কোর্সও করাবেন। নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দেন—নিজের পছন্দসই বিষয়ে কাজ করা উচিত, তবেই সফলতা আসবে। তিনি জানান, বর্তমানে সবাই বুঝতে পেরেছেন তাঁর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল এবং তিনি নতুন পরিচয়ে খুব খুশি।

সালাউদ্দিন সুমন কি পুরস্কার পেয়েছেন?

সালাউদ্দিন সুমন ২০২৫ সালে ‘মার্ভেল বি উইথ ইউ – মার্ভেল অফ টুমোরো’ কর্তৃক ‘সেরা ট্র্যাভেল ভ্লগার অফ দ্য ইয়ার’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এই পুরস্কার তাকে বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ কাহিনী তুলে ধরা ও ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশনে অসাধারণ অবদানের জন্য দেওয়া হয়েছে। 

সংবাদটি শেয়ার করুন