Akhon DeshAkhon DeshAkhon Desh
  • মূলপাতা
  • দেশ
  • বিদেশ
  • কূটনীতি
  • ইকোনোমি
  • জলবায়ু পরিবর্তন
  • পর্যটন
  • এভিয়েশন
  • ভ্রমণ
  • নির্বাচন
  • প্রবাস
  • অন্যান্য
    • অপরাধ
    • আইন ও বিচার
    • ইতিহাস ও ঐতিহ্য
    • ইনভেস্টিগেটিভ প্রতিবেদন
    • এন্টারটেইনমেন্ট
    • কৃষি
    • স্পোর্টস
    • গণমাধ্যম
    • গুড নিউজ
    • চাকরি
    • মফস্বল
    • দেশি রান্না
    • ধর্মীয়
    • নারী ও শিশু
    • পডকাস্ট
    • প্রযুক্তি
    • সোশ্যাল মিডিয়া
    • ফ্যাক্ট-চেকিং
    • মতামত
    • পলিটিক্স
    • লাইফস্টাইল
    • এডুকেশন
    • শুভ জন্মদিন
    • সাহিত্য
    • স্বাস্থ্য
Akhon DeshAkhon Desh
  • মূলপাতা
  • দেশ
  • বিদেশ
  • কূটনীতি
  • ইকোনোমি
  • জলবায়ু পরিবর্তন
  • পর্যটন
  • এভিয়েশন
  • ভ্রমণ
  • নির্বাচন
  • প্রবাস
  • অন্যান্য
    • অপরাধ
    • আইন ও বিচার
    • ইতিহাস ও ঐতিহ্য
    • ইনভেস্টিগেটিভ প্রতিবেদন
    • এন্টারটেইনমেন্ট
    • কৃষি
    • স্পোর্টস
    • গণমাধ্যম
    • গুড নিউজ
    • চাকরি
    • মফস্বল
    • দেশি রান্না
    • ধর্মীয়
    • নারী ও শিশু
    • পডকাস্ট
    • প্রযুক্তি
    • সোশ্যাল মিডিয়া
    • ফ্যাক্ট-চেকিং
    • মতামত
    • পলিটিক্স
    • লাইফস্টাইল
    • এডুকেশন
    • শুভ জন্মদিন
    • সাহিত্য
    • স্বাস্থ্য
Follow US
Copyright © 2026 Akhon Desh| Powered By: Hur Agency
পলিটিক্সলিড নিউজ

বাগেরহাটের মাটি ও মানুষের নেতা এম এ সালামের সংগ্রামের গল্প

বিশেষ সাক্ষাৎকার: রাজপথ থেকে কারাগার

M R Jannat Swapon is a Bangladeshi journalist
এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
এম আর জান্নাত স্বপন
M R Jannat Swapon is a Bangladeshi journalist
Byএম আর জান্নাত স্বপন
অতিথি প্রতিবেদক
এম আর জান্নাত স্বপন একজন বাংলাদেশী সাংবাদিক, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। ২০০০ সালে স্কুল জীবন থেকে আঞ্চলিক পত্রিকায় তার সাংবাদিকতা শুরু। তিনি পোশাক শিল্পের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ত্যাগ করে...
Follow:
- অতিথি প্রতিবেদক
শেয়ার
24 Min Read
শেয়ার

বাগেরহাটের মাটি ও মানুষের নেতা এম এ সালামের সংগ্রামের গল্পরাজনীতি, ক্রীড়া এবং ব্যবসা—তিনটি ভিন্ন ক্ষেত্রে সমানভাবে সফল একজন ব্যক্তিত্ব এম এ সালাম। ছাত্ররাজনীতির উত্তাল রাজপথ থেকে শুরু করে সুদীর্ঘ  এই যাত্রায় তিনি কারাবরণ করেছেন, অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কিন্তু আদর্শচ্যুত হননি। একদিকে তিনি যেমন বাগেরহাটের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নির্ভরতার প্রতীক, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের আধুনিকায়নে একজন দক্ষ সংগঠক।

নোটো পোষ্টের এডিটর-ইন-চিফ এম আর জান্নাত স্বপনের কাছে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারের বিশেষ আয়োজনে আমরা মুখোমুখি হয়েছি এই ত্যাগী ও মানবিক নেতার, যার জীবনের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে সংগ্রামের মহাকাব্য।

বাগেরহাটের মাটি ও মানুষের নেতা এম এ সালামের সংগ্রামের গল্প

নোটো পোষ্ট: আপনি ১৯৮৪ সালে রাজনীতি শুরু করেছিলেন। এই দীর্ঘ পথচলায় আপনার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এবং ত্যাগের মুহূর্ত কোনটি?

এম এ সালাম: সব থেকে বড় প্রাপ্তি আমি মনে করব যে, দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পর বাংলাদেশ স্বৈরশাসক থেকে মুক্ত হয়েছে। আমাদের দলের নেতা জনাব তারেক রহমান এখন দেশের হাল ধরেছেন। এটাই মনে হয় আমার জীবনে বড় প্রাপ্তি। আমাদের দল দীর্ঘদিন নিপীড়ন, পীড়ন ও জুলুমের শিকার হয়েছে। এটা শুধু আমি না, সারা বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলের সকল নেতাকর্মী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি ওনারই পুত্র আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান। আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যে আন্দোলনের মাঠে ছিলাম, সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে; মানুষ এখন শান্তিতে আছে। আমি মনে করি এটাই আমার সব থেকে বড় প্রাপ্তি।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য ২০০৯ সাল থেকে আন্দোলন করে এসেছি। সর্বশেষ ২০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে আমাকে আমার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। আমার ছেলে-মেয়ে ও পরিবারের সামনে আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

গ্রেফতারের সময় আমি শুধু একা না, আমার সাথে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুও ছিলেন। আমরা সে সময় বাসায় বসে বিভিন্ন নেতাকর্মীর সাথে ফোনে যোগাযোগ করছিলাম। ওই দিন রাত ১১টার দিকে ডিবি পুলিশ আমার বাসা ঘিরে ফেলে। আমাদের ওপর নির্যাতন করা হয়, এমনকি আমাদের ওপর বন্দুক তাক করা হয়।

পরিস্থিতি এমন ছিল যে আমার বাচ্চারা সেই দৃশ্য দেখে ভয়ে বাথরুমের ভেতর গিয়ে লুকায়; তাদের সেই কান্নাকাটি ও চিৎকার ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। এই দৃশ্যটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কালো অধ্যায় বা খারাপ সময়।

আর ত্যাগের কথা বললে—২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সবসময়ই ত্যাগের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। আমরা রাজপথে ছিলাম, অনেক হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। আমার ব্যবসা-বাণিজ্য সব ছেড়ে দিয়ে আমি সবসময় রাজনীতির মাঠেই ছিলাম। এটাই আমার জীবনের সব থেকে বড় ত্যাগ।

বাগেরহাটের মাটি ও মানুষের নেতা এম এ সালামের সংগ্রামের গল্পনোটো পোষ্ট: ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আপনি এবং আপনার পরিবার স্বৈরাচারী শাসনের যে ভয়াবহ রোষানলে পড়েছেন, তবুও কেন আপনি আপস করেননি? কোন আদর্শ আপনাকে রাজপথে টিকিয়ে রেখেছে?

এম এ সালাম: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ। আমি যখন স্কুলে পড়ি, ১৯৮০ সালে আমার সুযোগ হয়েছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দেখার। তিনি তখন আমাদের বাগেরহাটে খাল খনন প্রকল্প উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন। তখন বোধ হয় আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি; আমিও সেই খাল খননে অংশ নিয়েছিলাম। তখন থেকেই আমি বিএনপিকে ভালোবাসি। তাঁর নীতি ও আদর্শকে মনে-প্রাণে ধারণ করার কারণে আমি আর কখনোই অন্য কোনো দলের কথা চিন্তা করি নাই।

নোটো পোষ্ট: আপনি বিটিভি ভবন বা মেট্রোরেলের মতো সংবেদনশীল মামলায় অভিযুক্ত হয়ে অমানবিক রিমান্ড ও কারাবরণ করেছেন। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই কেন্দ্রীয় নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সাথে গ্রেফতার হওয়ার পর সেই রাতের অভিজ্ঞতা এবং নির্যাতনের কথা কি দেশবাসীকে জানাবেন?

এম এ সালাম: আসলে ওইদিন বেলা ২টা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। এরপর সারা দেশে কারফিউ জারি হয়। সেদিন সকালে আমরা রামপুরা টেলিভিশন ভবনের সামনে মিছিলে গিয়েছিলাম। আমার বাসা বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এরিয়ায়। বিকেলে ৩টা থেকে আমার বাসায় আমাদের দলের তৎকালীন প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ঢাকা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ছিলেন। রাত ১০টার দিকে আজাদ ভাই বাসা থেকে চলে যান। ১১টার দিকে হঠাৎ ডিবি পুলিশ আমার বাসার চতুর্দিক ঘিরে ফেলে।

ফোনের নেটওয়ার্ক বিকেল ৪টা থেকেই বন্ধ ছিল। আমরা বাটন ফোন দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে খোঁজ নিচ্ছিলাম। এমনকি আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের সাথেও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু যোগাযোগ করেছিলেন। পুলিশ হয়তো ট্র্যাকিং করে আমাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়। ডিবির লোকেরা বাসায় ঢুকে আমাদের ওপর চড়াও হয়। টুকুকে এক রুমে নিয়ে গিয়ে তাঁর বুকে ও মাথায় পিস্তল ঠেকায়। আমার কাছে জানতে চায় আর লোক কোথায়? নজরুল ইসলাম আজাদ তখন ছিলেন না, কিন্তু পুলিশ জানত আমরা চারজন ছিলাম।

তারা বাকিদের না পেয়ে আমার কপালে পিস্তলের বাট দিয়ে আঘাত করে। এখানে কপালে এখনো সেই কাটা দাগ আছে। ঘরে আমার বাচ্চারা ভয়ে বাথরুমে দরজা আটকে দিয়েছিল। এরপর যখন আমাদের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সারা পথ আমার মাথা থেকে রক্ত ঝরেছে। পুলিশ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আমাদের ডিবি অফিসে নেওয়া হয়।

গাড়িতে থাকা অবস্থায় ডিবি কর্মকর্তারা আমাদের নেতা তারেক রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করে। ডিবি অফিসে থাকার সময় আমরা অনেক নেতার দেখা পেয়েছি—শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সাইফুল ইসলাম নীরব, আমিনুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অনেকে সেখানে ছিলেন।

আমরা পুরো ১৩ দিন রিমান্ডে ছিলাম। প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই চোখ বেঁধে উপরে নিয়ে টর্চার করা হতো। সব থেকে বেশি টর্চার করা হয়েছে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে এবং রফিকুল আলম মজনুকে। সেই নির্যাতনের কথা মনে হলে এখনো চোখে পানি চলে আসে। যাই হোক, আমরা সেসব দিনের কথা ভুলে থাকতে চাই। আগামীতে আমরা জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন এক সোনার বাংলা গড়তে চাই যেখানে আর কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না।

বাগেরহাটের মাটি ও মানুষের নেতা এম এ সালামের সংগ্রামের গল্পনোটো পোষ্ট: ২০১৮ সালের নির্বাচনে আপনার বাড়ি, গাড়ি এবং দলীয় কার্যালয়ে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা হয়েছিল। নিজের জীবনের চেয়েও কি দলের কর্মীদের সুরক্ষা আপনার কাছে বড় ছিল?

এম এ সালাম: অবশ্যই বড় ছিল। কারণ নেতাকর্মীরা সব সময় আমার পাশে ছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমাদের মাঠে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। আমি প্রার্থী ছিলাম, আমার সাথে সরাসরি দুর্ব্যবহার না করলেও আমার কর্মীদের ওপর পাখির মতো হামলা করা হয়েছে। সন্ধ্যা হলে নির্বাচনী অফিস থেকে যারা বাড়ি ফিরছিল, আওয়ামী লীগের গুন্ডারা তাদের তুলে নিয়ে নির্যাতন করে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। পরবর্তীতে আমি তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। সেই নির্বাচন কোনো স্বাভাবিক নির্বাচন ছিল না।

গোয়েন্দা সংস্থা ডিএসবি আমাকে সতর্ক করেছিল যে আমি যেন বাগেরহাট ছেড়ে চলে যাই, কারণ আমার জীবননাশের হুমকি ছিল। কিন্তু আমি ভয় পাইনি, আমি বাগেরহাটেই ছিলাম। আমার গাড়ি বহরে ২-৩ বার হামলা করে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

পুলিশ আমাদের সহযোগিতা তো করেইনি, উল্টো আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গ দিয়েছে।

নোটো পোষ্ট: আপনার বিরুদ্ধে ঢাকা ও বাগেরহাটে মোট ১৪টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। এই মামলাগুলো লড়তে গিয়ে আপনার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক জীবন কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?

এম এ সালাম: মামলার সংখ্যা এখন ১৪টি মনে হচ্ছে, কিন্তু আসলে আরও বেশি ছিল। ২০১২-১৩ সালের কিছু মামলা আমি আদালতের মাধ্যমে শেষ করেছি। সর্বশেষ ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আমাকে কয়েকবার গ্রেফতার হতে হয়েছে। ঢাকায় রামপুরা, বনানী, শেওড়াপাড়া ও উত্তরাসহ মোট ৬টি মামলায় সে সময় আমাদের আসামি করা হয়েছিল।

রাজনীতির জন্য ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা হিসাব করলে মিলবে না। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো আমি আমার পরিবারকে সময় দিতে পারিনি। ব্যবসার ক্ষতিটাকেও আমি বড় করে দেখি না, কারণ আমি সবসময় এলাকার মানুষের পাশে থেকেছি। আমি নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মনে করি, আর সেই আয়ের টাকা আমি মানুষের সেবায় ব্যয় করেছি।

আমি মনে করি আমি কিছুই হারাইনি, বরং মানুষের ভালোবাসা ও মান-সম্মান পেয়েছি। এটি শহীদ জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শের কারণেই সম্ভব হয়েছে।

নোটো পোষ্ট: স্বৈরাচারের পতনের পরদিন যখন আপনি কারামুক্ত হলেন, তখন আপনার মনের অনুভূতি কেমন ছিল? সেই সময় কি মনে হয়েছিল যে আপনার এত বছরের ত্যাগ সার্থক?

এম এ সালাম: আসলে স্বৈরশাসকের পতন যখন ঘটলো, আমরা তখন জেলখানায়। ৫ই আগস্ট সকাল ১১টার দিকেই আমরা খবর পেয়েছি যে শেখ হাসিনা আত্মসমর্পণ করেছে।

বাইরে আপনারা হয়তো পরে শুনেছেন, কিন্তু জেলখানায় আমরা ১১টার দিকেই খবর পেয়ে যাই যে হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন।

তখন আমার সাথে আরও অনেক নেতা ছিলেন। খবর শোনার সাথে সাথে আমরা সবাই খুশিতে কোলাকুলি শুরু করি (এ সময় তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন)। কেউ কান্না ঠেকিয়ে রাখতে পারিনি। আমার সাথে তারিকুল আলম তেনজিং, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ছিলেন—আমরা সবাই সবাইকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করেছি। মনে হয়েছে আমরা নতুন করে স্বাধীন হলাম।

জেলখানার ভেতরে তখন আসামীরা কিছুটা বিশৃঙ্খলা করছিল। আমাদের নেতা রুহুল কবির রিজভী ভাই, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাহেব এবং নজরুল ইসলাম খান ভাইদের সাথে আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান লন্ডন থেকে ফোনে কথা বলেন। এরপর আমরা জেলখানার বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে (পদ্মা, যমুনা, মেঘনা) গিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করি। সবাই আনন্দে কাঁদছিল। আমরা ৬ তারিখে জেল থেকে মুক্ত হয়ে সরাসরি নয়াপল্টনে দলীয় অফিসের সামনে আসি।

সেখানে আমাদের সিনিয়র নেতারা বক্তব্য দেন। এরপর গুলশানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে দেখা করে বাড়ি যাই। আমি ২০ জুলাই গ্রেফতার হওয়ার পর ১৬ দিন ডিবি অফিসে ছিলাম, জেলখানায় ছিলাম মাত্র ১ দিন। ৪ তারিখে আমাদের জেলখানায় পাঠানো হয়েছিল। সেই কালো দিনের কথা ভুলে যেতে চাই। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে এমন দিন যেন আর না আসে। এখন দেশ স্বাধীন হয়েছে, সবাই মিলেমিশে থাকতে চাই।

বাগেরহাটের মাটি ও মানুষের নেতা এম এ সালামের সংগ্রামের গল্পনোটো পোষ্ট: আপনি একজন এমবিএ ডিগ্রিধারী এবং ৭টি ভাষায় পারদর্শী। উচ্চশিক্ষিত মানুষ হিসেবে রাজনীতিতে এসে আপনি কি মনে করেন যে মেধাবীদের রাজনীতিতে আসা এখন সময়ের দাবি?

এম এ সালাম: অবশ্যই। যাদের মেধা আছে তাদের সেই মেধা কাজে লাগানোই সবথেকে ভালো কাজ। মেধা ছাড়া কোনো ভালো কিছু করা সম্ভব নয়। আপনি যে সাতটি ভাষার কথা বললেন—আসলে ছাত্রজীবন থেকেই আমি ভ্রমণ খুব পছন্দ করতাম। যার কারণে ১৯৯০ সালে গ্রাজুয়েশন শেষ করে আমি সুইজারল্যান্ডে যাই।

সেখানে পড়াশোনার পর ফ্রান্স এবং স্পেনেও কিছুদিন ছিলাম। ভাষার প্রতি আমার আলাদা এক দুর্বলতা ছিল। সুইজারল্যান্ডে থাকার সময় জার্মান শিখেছি, ফ্রান্সে ফ্রেঞ্চ এবং স্পেনে থাকাকালীন স্প্যানিশ ভাষা রপ্ত করেছি। আমার ছেলে, যার বয়স এখন ১৪ বছর, সে বর্তমানে স্পেনে আছে। তাকে ওখানকার একটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ভর্তি করেছি। আমি ফুটবল ভালোবাসি এবং সেও ফুটবল পছন্দ করে বিধায় তাকে ওখানকার একটি ফুটবল একাডেমিতে ভর্তি করিয়েছি। ২০২৩ সাল থেকে সে ওখানেই আছে।

নোটো পোষ্ট: আপনি বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, ফরাসি, কোরিয়ান, জার্মান এবং স্প্যানিশ ভাষায় পারদর্শী—এটি আপনার একটি অনন্য গুণ। এই দক্ষতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ বা দলের প্রতিনিধিত্ব করতে আপনাকে কতটা সাহায্য করে?

এম এ সালাম: আমি ফ্রান্সে গেলে ফরাসি ভাষায় কথা বলতে পারি, স্প্যানিশদের সাথে তাদের ভাষায় কথা বলি। কোরিয়ান ভাষাটা আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি যেহেতু জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা করি, তাই কোরিয়ার সাথে আমার ট্রেডিং ও জনশক্তি ব্যবসার খাতিরে ভাষাটি শিখতে হয়েছে। এতে কোরিয়ানদের সাথে যোগাযোগ করা আমার জন্য অনেক সহজ হয়েছে।

আমাদের দল এখন রাষ্ট্র পরিচালনায় আছে; আমি চাইব কোরিয়ার আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের দেশের রাস্তাঘাট ও নির্মাণ খাতে ব্যবহার করতে। ১৯৯৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত আমি অনেক জনশক্তি কোরিয়ায় পাঠিয়েছি। আমার এই ভাষাগত দক্ষতা আমি দেশের কল্যাণের জন্য ব্যবহার করেছি এবং আগামীতেও করব। এটি আমার জন্য এবং দেশের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে আমি মনে করি।

নোটো পোষ্ট: একজন সফল ব্যবসায়ী হয়েও আপনি কেন আরাম-আয়েশ ছেড়ে এই কণ্টকাকীর্ণ পথ বেছে নিলেন? ব্যবসায়িক সততা কি আপনাকে রাজনীতিতে স্বচ্ছ থাকতে সাহায্য করে?

এম এ সালাম: আমি ব্যবসা যখন শুরু করেছি, তখন থেকেই সৎ থাকার চেষ্টা করেছি। মানুষের সাথে কখনো দুর্ব্যবহার করিনি। আমার ব্যবসা নিয়ে কেউ কোনো খারাপ কথা বলার সুযোগ পায়নি। ঠিক রাজনীতিতেও আমি ব্যবসায়িক সততা বজায় রেখেছি। দলের কর্মকাণ্ডে কখনো ফাঁকি দেইনি। আমি চেষ্টা করেছি তৃণমূলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে স্বচ্ছভাবে রাজনৈতিক কাজ পরিচালনা করতে।

আমার কাছে রাজনীতি মানে কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, বরং এলাকার মানুষের সেবা করা। মানুষের পাশে থাকাটা আমার কাছে সবচেয়ে তৃপ্তির কাজ। ব্যবসার পাশাপাশি আমি ক্রীড়াঙ্গনের সাথেও যুক্ত। মোহামেডান ক্লাবের সাথে আছি, বাগেরহাটের স্থানীয় ক্লাবের সভাপতি হিসেবে কাজ করছি। আগামীতে ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও বড় ভূমিকা রাখতে চাই।

নোটো পোষ্ট: আপনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মোহামেডানের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব ছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর পরিচালক নির্বাচিত হলেন। ক্লাবের প্রতি আপনার এই বিশেষ টান এবং এই দীর্ঘ বিরতির কারণ কী ছিল?

এম এ সালাম: আমি ২০০৮ সালে মোহামেডান ক্লাবের ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হই এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করি। ২০১১ সালে মোহামেডান যখন প্রথম লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়, তখন আমি এক বছরের জন্য পরিচালক ছিলাম। ২০১৪ সালের পর ক্লাবে স্বৈরশাসকের তাণ্ডব শুরু হয়। আওয়ামী লীগের লোকজন ক্লাবে নানাভাবে অত্যাচার শুরু করে, ফলে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারিনি।

২০১৬ সালে যে কমিটি হয়েছিল, সেখানে বেশিরভাগই ছিল আওয়ামী লীগের লোক। ৭১ টিভির মোজাম্মেল সাহেব তাঁর অফিসে বসে নির্ধারণ করে দিতেন কারা পরিচালক হবে। আমাদের বিএনপি ঘরানার কাউকেই ফরম কিনতে দেওয়া হয়নি। সেই অবৈধ কমিটি সম্প্রতি বিলুপ্ত হয়েছে।

আমি ক্রীড়া খুব পছন্দ করি বলেই সবসময় এই ক্লাবের সাথে ছিলাম। শুধু মোহামেডান নয়, বাগেরহাটে জেলা পর্যায়ের খেলাধুলায় আমি ২০০৮ সাল থেকে পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছি।

বাগেরহাটের মাটি ও মানুষের নেতা এম এ সালামের সংগ্রামের গল্পনোটো পোষ্ট: মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের আধুনিকায়ন এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে এর হারানো শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারে আপনার বিশেষ পরিকল্পনা কী? একজন অভিজ্ঞ সংগঠক হিসেবে আপনি কোন বিষয়গুলোতে অগ্রাধিকার দেবেন?

এম এ সালাম: মোহামেডান বাংলাদেশের সব থেকে ঐতিহ্যবাহী একটি ক্লাব। মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, জাকারিয়া পিন্টুর মতো গুণী খেলোয়াড়রা এই ক্লাবে খেলেছেন। বর্তমানে একটি বড় ক্লাব চালানো অনেক ব্যয়সাপেক্ষ। মতিঝিলে আমাদের প্রায় ৫ বিঘার মতো জমি আছে। আমাদের পরিকল্পনা হলো এই জমিতে একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করা। এতে যে আয় হবে তা দিয়ে ক্লাবের দৈন্যদশা দূর হবে এবং ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ব্যাডমিন্টন ও দাবাসহ প্রতিটি সেক্টরে আমরা নেতৃত্ব দিতে পারব।

আমার একটি ব্যক্তিগত স্বপ্ন আছে ফুটবল একাডেমি করার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্কুলে ক্রীড়া শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার কথা বলেছেন। আমার টার্গেট হলো ক্লাস ফাইভের ছেলেমেয়েদের একাডেমি থেকে ৭-৮ বছর বয়স থেকেই ট্রেনিং দেওয়া যাতে তারা জাতীয় পর্যায়ে খেলতে পারে। সাভারে মোহামেডানের ২৫ একর জমি আছে। সেখানে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে স্টেডিয়াম এবং খেলোয়াড়দের জন্য আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করতে চাই।

নোটো পোষ্ট: ২০০৮ এবং ২০১৮ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। একজন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে আগামী নির্বাচনে যদি সুযোগ পান, বাগেরহাটের সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান ও উন্নয়নে আপনার বিশেষ কোনো ‘মাস্টার প্ল্যান’ আছে কি?

এম এ সালাম: আমাদের বাগেরহাটের মানুষ মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে আমাদের এলাকায় ধান এবং মাছের চাষ বেশি হয়। আমার পরিকল্পনা আছে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া, যাতে মাছ চাষ আরও উন্নত হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকরা যে ক্ষতির শিকার হন, তা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সে ব্যাপারেও আমার বিশেষ ভাবনা আছে।

আমাদের মোংলা পোর্টে ইপিজেড থাকলেও বাগেরহাট জেলা শহরে কোনো ইপিজেড নেই। বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। আমার চেষ্টা থাকবে বাগেরহাট জেলায় আরও শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার। এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের একমাত্র পথ হলো শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

বাগেরহাটের মাটি ও মানুষের নেতা এম এ সালামের সংগ্রামের গল্পনোটো পোষ্ট: বর্তমানে আপনি বাগেরহাট জেলা বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক। গত ১৭ বছরের হামলা-মামলায় জর্জরিত নেতা-কর্মীদের পুনর্বাসন ও তাঁদের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে আপনি কী করছেন?

এম এ সালাম: গত ১৭ বছরে আমাদের এলাকার নেতাকর্মীদের যে ক্ষতি হয়েছে, সেই মর্যাদা পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়া কারও পক্ষে সম্ভব না। তবুও যারা হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন, তাঁদের আইনি সহায়তা দিয়ে মুক্ত করার দায়িত্ব আমি সবসময় পালন করেছি। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেমন সারা দেশের মানুষের জন্য কাজ করছেন, তেমনি আমি আমার এলাকার নেতাকর্মীদের পাশে থেকে তাঁদের চাকুরী ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।

নোটো পোষ্ট: বাগেরহাট জেলা বিএনপিতে বিভিন্ন সময় উপদলের কথা শোনা যায়। আহ্বায়ক ও সমন্বয়ক হিসেবে আপনি দলকে কতটা ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছেন এবং আগামী দিনের সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ কী?

এম এ সালাম: ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমি তিনবার বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। বর্তমানে আমি সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

২০২৫ সাল থেকে আমাদের সাংগঠনিক কাজ নতুন করে শুরু হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন এবং উপজেলায় ভোটের মাধ্যমে আমরা কমিটি করেছি। বাগেরহাটের ৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভার প্রতিটি ইউনিটের কমিটি নির্বাচনের আগেই সম্পন্ন হয়েছে। জেলা সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচনের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের (নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ) কাছে আবেদন জানাব, যেন কাউন্সিলের মাধ্যমে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারিত হলে উপদলীয় কোন্দল এমনিতেই অবসান ঘটবে।

নোটো পোষ্ট:  মোংলা বন্দর এবং খান জাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্পের গতি বাড়াতে আপনার কোনো বিশেষ ভাবনা আছে কি?

এম এ সালাম: খান জাহান আলী বিমানবন্দর আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি মহতী উদ্যোগ ছিল। কিন্তু বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার এর কোনো কাজ করেনি।

আমি আশাকরি, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিমানবন্দরের দিকে নজর দেবেন। এই বিমানবন্দরটি সচল হলে দক্ষিণবঙ্গের অর্থনীতি পাল্টে যাবে। এছাড়া মোংলা বন্দরকে আধুনিকায়ন করার বিষয়ে আমাদের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সাথেও আমার কথা হয়েছে। মোংলা বন্দরকে গুরুত্ব দিলে দেশের অর্থনীতি আরও সচল হবে।

বাগেরহাটের মাটি ও মানুষের নেতা এম এ সালামের সংগ্রামের গল্পনোটো পোষ্ট: আপনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা’ বাস্তবায়নে আপনার ব্যক্তিগত ভূমিকা কী হবে?

এম এ সালাম: ৩১ দফা ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই আমরা আমাদের এলাকায় এটি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা সভা ও কর্মশালা করেছি। জনগণের মধ্যে এই সংস্কার ভাবনা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাশে থেকে আমরা ৩১ দফা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

নোটো পোষ্ট: আপনি মোট ১৩ দিন রিমান্ড ভোগ করেছেন। সেই দিনগুলোর ভয়াবহত বা কোনো বিশেষ স্মৃতি কি আমাদের সাথে শেয়ার করবেন?

এম এ সালাম: রিমান্ড ও জেল মিলিয়ে আমি ১৬ দিন ছিলাম। ১৩ দিনের রিমান্ডে প্রথম দিকে মনে হতো আমরা আর জীবিত ফিরতে পারব না। রিমান্ডে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর যে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে, তা ভোলার নয়। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাইফুল আলম নীরব, রফিকুল আলম মজনু ও বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলামকে নির্মমভাবে টর্চার করা হয়েছে। চোখ বেঁধে টর্চার সেলে নিয়ে যাওয়া হতো। নির্যাতন শেষে যখন তাদের রুমে দিয়ে যেত, কেউ সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারত না।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ছিল যাত্রাবাড়ী ছাত্রদলের এক নেতার অবস্থা; তাকে প্রতিদিন টর্চার করা হতো এবং পরে কোলে করে বিছানায় রেখে যাওয়া হতো। ভিপি নুর আমাদের সাথে ছিলেন, তাকেও মারাত্মক নির্যাতন করা হয়েছে; শেষ পর্যন্ত তাকে হুইল চেয়ারে করে নিয়ে যেতে হয়েছিল। এমনকি ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ভাইকে না পেয়ে তাঁর ছেলে সানিয়াতকেও অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছে। সেই বিভীষিকার কথা মনে পড়লে এখনো গা শিউরে ওঠে। আমি সেই দিনগুলো ভুলে থাকতে চাই।

বাগেরহাটের মাটি ও মানুষের নেতা এম এ সালামের সংগ্রামের গল্পনোটো পোষ্ট: আপনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনো বড় আক্ষেপ বা অপূর্ণতা আছে কি?

এম এ সালাম: আমার কোনো ব্যক্তিগত আক্ষেপ বা চাওয়া-পাওয়া নেই। আমি রাজনীতি করি জনসেবার জন্য। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন ছিল ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’। আমি সেই স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখে যেতে চাই—এটাই আমার একমাত্র চাহিদা।

নোটো পোষ্ট:  যারা রাজনীতিতে আসতে চায় কিন্তু জেল-জুলুমের ভয় পায়, তাদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?

এম এ সালাম: রাজনীতি মানেই হলো জনসেবা। যারা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য রাজনীতিতে আসতে চায়, আমি মনে করি তাদের আসা উচিত নয়। যারা সৎ, চরিত্রবান এবং দেশের কল্যাণ চায়, কেবল তাদেরই রাজনীতিতে আসা উচিত। ভয় পেলে রাজনীতি করা যায় না। সবকিছু ভুলে মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে রাজনীতিতে আসতে হবে। রাজনীতি থেকে অসৎ মানুষদের সরিয়ে সৎ ও মেধাবীদের জয়গান গাইতে হবে।

নোটো পোষ্ট: আপনার ছেলে বার্সেলোনায় ফুটবল খেলে, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই।

এম এ সালাম: আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই ফুটবলে খুব দক্ষ ছিল। সে ফুটবল খুব পছন্দ করে বিধায় ২০২৩ সালে তাকে বার্সেলোনার একটি একাডেমিতে ভর্তি করেছি। বর্তমানে সে সেখানে বয়স ভিত্তিক পেশাদার ক্লাবে অনূর্ধ্ব-১৪ টিমে খেলছে। পাশাপাশি সে ‘আগোরা বার্সেলোনা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে’ মার্কিন কারিকুলামে পড়াশোনা করছে।

আমার স্বপ্ন ছিল ফুটবলার হওয়ার, কিন্তু পড়াশোনার চাপে হয়ে ওঠেনি। আমার ছেলে যেন একজন বড় ফুটবলার হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে, এটাই আমার চাওয়া।

নোটো পোষ্ট: ২০২৬ সালের নির্বাচন পরবর্তী অপপ্রচার নিয়ে আপনার বক্তব্য কী?

এম এ সালাম: ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে কারচুপি করে আমাকে হারানো হয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। দল অন্যকে মনোনয়ন দেওয়ায় আমি প্রথমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু দলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি। আমি ধানের শীষের প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছি। জনগণ ভোট না দিলে সেটা ভিন্ন কথা, কিন্তু যারা আমার নামে অপপ্রচার করছে যে আমার কারণে দল হেরেছে, সেটা ঠিক নয়। আমার কোনো ক্ষোভ নেই।

সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো আমাদের দল জিতেছে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এখন সারা দেশে মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে, আমি এতেই খুশি।

বাগেরহাটের মাটি ও মানুষের নেতা এম এ সালামের সংগ্রামের গল্পধন্যবাদ জনাব এম এ সালাম, আপনার জীবনের এত সব চড়াই-উতরাইয়ের গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। পাঠক, আমরা পড়ছিলাম একজন ত্যাগী জননেতার কথা। আমরা আশাকরি, তাঁর নেতৃত্বে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব এবং বাগেরহাটের সাধারণ মানুষের স্বপ্নগুলো হবে বাস্তবায়িত।

আজ ‘নোটো পোষ্ট’র বিশেষ সাক্ষাৎকার থেকে আমি এম আর জান্নাত স্বপন বিদায় নিচ্ছি। আমাদের সাথেই থাকুন।

ট্যাগএম এ সালাম
সংবাদটি শেয়ার করুন
Pinterest Tumblr Reddit Threads Copy Link

সর্বশেষ

📌 স্পেনের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আবেদন বাতিল হচ্ছে? জেনে নিন ৫টি প্রধান কারণ! 🚫
স্পেন প্রবাসীদের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
নির্বাচিত পোস্ট প্রবাস
ডিএনসিসি প্রশাসক মিল্টনের শাহজাদপুর টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন; ইউনিসেফ ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি
ডিএনসিসি প্রশাসক মিল্টনের শাহজাদপুর টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন; ইউনিসেফ ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি
দেশ ফোকাস
বিকল্প সড়কের কাজ দ্রুত শুরু হচ্ছে, সুফল মিলবে ৬ মাসেই: ডিএনসিসি প্রশাসক
দেশ নির্বাচিত পোস্ট
আমিনুল ইসলাম
বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে মালয়েশিয়ার নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা: বিতর্ক এবং সরকারের ব্যাখ্যা
প্রবাস ফোকাস
মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন
‘মানবিকতা থাকবে, কিন্তু ফুটপাত কোনোভাবেই দখল রাখা যাবে না’— ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন
পলিটিক্স লিড নিউজ
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এমএইচটিসি-র উদ্যোগ
বাংলাদেশি রোগীদের বিশেষ সুবিধা দেবে মালয়েশিয়ার শীর্ষ হাসপাতালগুলো
ফোকাস স্বাস্থ্য
ঢাকায় বিনোদ চৌধুরীর বই ‘মেড ইন নেপাল’-এর মোড়ক উন্মোচন
ঢাকায় বিনোদ চৌধুরীর বই ‘মেড ইন নেপাল’-এর মোড়ক উন্মোচন
ফোকাস সাহিত্য
গফরগাঁওয়ে চাচার দা’র কোপে ভাতিজা খুন; ঘাতক চাচা পলাতক
মাদকাসক্ত চাচার নিষ্ঠুরতা: গফরগাঁওয়ে ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা
মফস্বল
উপজেলা পর্যায়েও হবে তথ্য কমপ্লেক্স; তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর
‘অপপ্রচারে লিপ্ত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে’: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী
পলিটিক্স মফস্বল

আজকের দিন-তারিখ

  • শুক্রবার (রাত ১:৪৫)
  • ২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • ১২ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)

সম্পর্কিত

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক মুরাদের শ্রদ্ধা নিবেদন

ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদের শ্রদ্ধা নিবেদন

এপ্রিল ৪, ২০২৬
শ্রমবাজারের উন্নয়ন ও সংকট নিরসনে প্রতিমন্ত্রীর সাথে এম এ সালামের ফলপ্রসূ আলোচনা

শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সাথে বায়রা নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ; নেতৃত্বে এম এ সালাম

এপ্রিল ২, ২০২৬
সাইফুল আলম নীরব

তারেক রহমানের আগমনে মুখরিত নয়াপল্টন; শুভেচ্ছা জানালেন ঢাকা-১২ আসনের নেতা নীরব

মার্চ ২৮, ২০২৬
সাইফুল আলম নীরব

মাঠের রাজনীতি থেকে কি নির্বাসনে সাইফুল আলম নীরব?

মার্চ ২৮, ২০২৬
আরো নোটো পোষ্ট দেখুন

Editor

Muhammad Newaz Morshed

Address

House 01, Road 03, Block A, Section 06, Mirpur 10, Dhaka 1216, Bangladesh

Phone

+88 01753812000
Akhon DeshAkhon Desh
Follow US
Copyright © 2026 Akhon Desh| Powered By: Hur Agency
  • Editorial Policy
  • Privacy Policy
  • Career
  • Advertisement
  • Bengali Converter
  • Complaints
  • Contact
adbanner
Welcome Back!

Sign in to your account

Username or Email Address
Password

Lost your password?