কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুতগতিতে পরিবর্তন করছে ডাক্তারদের রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন এআই সিস্টেমগুলো চিকিৎসা স্ক্যান বিশ্লেষণে মানব রেডিওলজিস্টদের চেয়ে চার গুণ বেশি নির্ভুল ফলাফল দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা। এই প্রযুক্তির লক্ষ্য হলো চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়ানো, মানব দক্ষতাকে প্রতিস্থাপন করা নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত অ্যালগরিদম লাখ লাখ চিকিৎসাগত চিত্রে প্রশিক্ষিত হওয়ায় ক্যান্সার, হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, পরীক্ষায় এই সিস্টেমগুলো প্রায়শই মানব রেডিওলজিস্টদের সমতুল্য বা তারও ভালো ফলাফল দেখাচ্ছে। এর ফলে রোগী দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পারে এবং বেঁচে থাকার হার বেড়ে যায়।
এআই এবং মানব সহযোগিতা
এআই এবং মানুষের সহযোগিতা নির্ভুলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এআই প্রথম চিত্র স্ক্রিনিং করে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো শনাক্ত করে, পরে ডাক্তার চূড়ান্ত নির্ণয় ও চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করেন। এটি নির্ণয় ত্রুটি কমায় এবং ডাক্তারদের কাজের চাপ হ্রাস করে। এছাড়াও, এআই প্রযুক্তি গ্রামীণ হাসপাতালেও উন্নত নির্ণয় সুবিধা পৌঁছে দিতে পারে, যা স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সমতামূলক করে তুলবে। দ্রুত ও নির্ভুল নির্ণয় অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও হাসপাতালে থাকার সময় কমিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ও হ্রাস করতে সহায়তা করবে।
হৃদরোগ চিকিৎসায় স্থানীয় প্রয়োগ
এদিকে, বাংলাদেশেও এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সোমবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইসিভিডি) এবং শিপ ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত “কার্ডিয়াক ও অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম সেন্টার স্মল-স্কেল ডেমোনস্ট্রেশন প্রোজেক্ট”র চূড়ান্ত ফলাফল ও সমাপনী সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এনআইসিভিডি’র মাল্টিপারপাস হল রুমে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিপ ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালের ডেপুটি ডিরেক্টর সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আবুল খায়ের। তিনি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে এই ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
এনআইসিভিডি’র পরিচালক ও অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অত্যাধুনিক ‘এআই ডায়াগনস্টিক সিস্টেম’ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ উপস্থাপনা দেওয়া হয়। জাইকা বাংলাদেশ অফিসের বিশেষ উপদেষ্টা মি. কিয়োশি আমাডা জাপানি সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই এখন আর ভবিষ্যতের ধারণা নয়; এটি আজকের বাস্তবতা, যা রোগ নির্ণয় ও রোগীর যত্নকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।
