
যখন পৃথিবীর মাটিতে ভূমিকম্পের কম্পন ছড়িয়ে পড়ে, তখন উঁচু ভবনে থাকা মানুষজন প্রবল ঝাঁকুনি অনুভব করেন। কিন্তু এই কম্পন কি আকাশে ভেসে থাকা বিমানেও পৌঁছাতে পারে? বিমানের ভেতরে থাকা যাত্রীরা কি সেই ভূকম্পন তরঙ্গ অনুভব করতে পারেন? প্রশ্নটি অদ্ভুত শোনালেও এর পেছনে রয়েছে বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা।
ভূমিকম্পের সময় যে ভূকম্পন তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, তা মূলত দুই ধরনের: পি ওয়েভ (P-wave) বা চাপ তরঙ্গ এবং এস ওয়েভ (S-wave) বা শিয়ার তরঙ্গ। এই তরঙ্গগুলো পৃথিবীর পৃষ্ঠ ছাড়িয়ে যখন বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন তা শব্দতরঙ্গে রূপান্তরিত হয়। তবে এস-তরঙ্গ গ্যাস বা তরল মাধ্যমে চলতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পি-তরঙ্গ বাতাসে প্রবেশ করলেও তা সাধারণত ২০ হার্জের নিচে থাকে, যা মানুষের শ্রবণসীমার বাইরে। এই তরঙ্গকে ইনফ্রাসাউন্ড বলা হয়।
বিমান কেন থাকে কম্পনমুক্ত?
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS)-এর সিনিয়র সায়েন্স অ্যাডভাইজর ডেভিড অ্যাপলগেটের মতো বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকাশে ভেসে থাকা বিমানে ভূমিকম্পের শব্দ বা কম্পন—কোনোটাই অনুভব করা সম্ভব নয়। এর মূল কারণ হলো ‘attenuation’ বা তরঙ্গ দুর্বলীকরণ।
বাতাসের মতো মাধ্যম দিয়ে ছড়িয়ে যেতে যেতে এই তরঙ্গগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়। যেমন দূর থেকে রেডিওর শব্দ কম শোনা যায়, ঠিক তেমনি ভূকম্পন তরঙ্গ মাটি ও বায়ুর মধ্য দিয়ে উপরে উঠতে উঠতে এতটাই দুর্বল হয়ে যায় যে বিমানের নিজস্ব শব্দ ও কম্পনের মধ্যেই তা হারিয়ে যায়।
অর্থাৎ, ভূমিকম্পের তরঙ্গ যদি ৩০,০০০ ফিট (৯,১৪৪ মিটার) উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছাতেও পারে, তবুও সেটি বিমানে বসা যাত্রীদের জন্য কোনো ঝাঁকুনি বা শব্দ সৃষ্টি করতে পারে না। ইনফ্রাসাউন্ড বা ভবন দুলে ওঠার শব্দ কোনোটিই আকাশে শোনা সম্ভব নয়। তাই আকাশপথে থাকা যাত্রীরা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত থাকেন।
