
আরব দলগুলোর সঙ্গে যদি সমঝোতা শেষ পর্যন্ত না হয়, তাহলে ইসরায়েলের সাংবিধানিক বিধি মেনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকেই ‘তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী’ পরিচয়ে নতুন সরকার গঠন করতে হবে— যে সরকারের প্রধান দায়িত্ব হবে শিগগিরই আর একটি নির্বাচনের আয়োজন করা।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সর্বশেষ মন্ত্রিসভায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন বেন গিভর এবং অর্থমন্ত্রী ছিলেন স্মোৎরিচ। দু’জনই কট্টর ডানপন্থি নেতা এবং গত কয়েক বছরে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর অঞ্চলে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েক বার উসকানি দিয়েছেন তারা।
২০২৩ সালে ৭ অক্টোবর হামাসের জঙ্গি হামলার পর যে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করেছিল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)— তা থামানোর পথেও বড় বাধা ছিলেন এই দু’জন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা। এই সংবাদমাধ্যমটি জাতীয় ইসরায়েলি দৈনিক দ্য জেরুজালেম পোস্টের অধীন একটি সংবাদমাধ্যম।
মার্কিন সূত্রগুলো হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লাকে জানিয়েছে যে ট্রাম্প মনে করেন—অধিকৃত পশ্চিম তীরে বেন-গিভর ও স্মোতরিচের ইন্ধনে বসতি স্থাপনকারীদের লক্ষ্য করে যে সহিংসতা চলছে, তা পশ্চিম এশিয়া নিয়ে তার পরিকল্পনাকে ব্যাহত করছে।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ট্রাম্পের মতে—গাজা উপত্যকা নিয়ে তার পরিকল্পনা, ইসরায়েলের সঙ্গে আরবের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক উন্নয়ন সংক্রান্ত কূটনৈতিক চুক্তি ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর সম্প্রসারণ এবং ইসরায়েল ও আরব বিশ্বের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া— এই সবকিছু পশ্চিম তীরের সহিংসতার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এই সহিংসতা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোট কিংবা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট—কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোট অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির জোট ৫৩টি আসনে, আইজেনকোটের বিরোধী জোট ৪৮টি আসনে এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসনে জয়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরব দলগুলো এখন ‘কিংমেকার’ বা নির্ণায়ক শক্তিতে পরিণত হওয়ায়, দেশটির প্রধান বামপন্থী দলের নেতা ইয়ার গোলান বিরোধী নেতা আইজেনকোটকে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ভেঙে যাওয়ার সম্ভাব্যতাও দেখা দিয়েছে। বিরোধী জোটের অন্যতম ডানপন্থি নেতা আভিগদোর লিবারম্যান এবং তার দল ‘ইসরায়েল বেইতেনু’ নেতানিয়াহুর জোটে যোগ দিতে পারেন— এমন গুঞ্জনও শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে।
