
দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ, মানসম্মত সেবা, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, পর্যটন শুধু ব্যক্তিগত সুবিধা বা মুনাফার ক্ষেত্র নয়; এটি একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতিতে অবদান রাখার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ‘১৪তম বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মেলা চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে শুধু আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য থাকলেই হবে না। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানসম্মত সেবা, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, বিমান চলাচল, পরিবহন এবং খাবারসহ প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থা থাকতে হবে। এসব বিষয়ের সমন্বয়েই পর্যটকদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকার ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারি সংস্থা কিংবা বেসরকারি খাত—কোনো এক পক্ষের পক্ষে এককভাবে সব প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পর্যটন খাতের নীতিগত সমস্যাগুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়ে সচিব বলেন, নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং ভিসাসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে অংশীজনদের উত্থাপিত প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করা হবে। পর্যটন খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তন ও প্রশিক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটন খাতের জন্য প্রণীত মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিকল্পনায় আরও কোনো পরিবর্তন বা সংযোজনের প্রয়োজন হলে তা বিবেচনা করা হবে। খাতটির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, পর্যটন গন্তব্যে সুযোগ-সুবিধা তৈরি এবং সেখানে পৌঁছানোর ব্যবস্থা উন্নত করতে সরকার ও বেসরকারি উদ্যোক্তারা যৌথভাবে কাজ করতে পারেন। প্রয়োজনে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।
আঞ্চলিক পর্যটন বিকাশের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, ভারত ও মিয়ানমারকে যুক্ত করে একটি পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দেশ ও পর্যটন খাতের অংশীজনদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
পর্যটন খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সচিব। তিনি বলেন, পর্যটকদের সেবা, সেবাদাতাদের নিবন্ধন এবং ভিসাসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা যেতে পারে। এতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট সেবা আরও সহজ ও সমন্বিত করার সুযোগ তৈরি হবে।
ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, প্রচলিত পর্যটন ধারণার বাইরে গিয়ে নতুন ও বৈচিত্র্যময় পর্যটন পণ্য এবং গন্তব্য উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সেবার মান নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। একজন পর্যটক ভালো অভিজ্ঞতা পেলে অন্যদের কাছে তা তুলে ধরেন, যা নতুন পর্যটক আকৃষ্ট করতে সহায়তা করে। বিপরীতে, মানসম্মত সেবা না পেলে পর্যটকদের আগ্রহ কমে যেতে পারে।
পর্যটন খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সব কাজ একসঙ্গে বা এক দিনে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তবে অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে চায় সরকার। এ জন্য বেসরকারি খাতসহ সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।
দেশের পর্যটনশিল্পকে আরও গতিশীল করা, আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে তুলে ধরা এবং টেকসই পর্যটনের ধারণাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে এই মেলার টাইটেল স্পন্সর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এ আয়োজনে ২০টির বেশি দেশের পর্যটন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।
