
বাংলাদেশে নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক চুক্তি অপশনাল প্রোটোকল টু দ্য কনভেনশন এগেইনস্ট টর্চার (ওপিকেট)-এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার আজ ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে অবস্থিত সুইজারল্যান্ড দূতাবাস এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
চলতি বছর বাংলাদেশ সরকার ওপিকেট চুক্তিটি অনুমোদন করে। সেমিনারে সরকার, জাতিসংঘ, নাগরিক সমাজ, উন্নয়ন সহযোগী এবং যুব প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ওপিকেট অনুমোদন করাটা শেষ নয়, বরং ন্যায়বিচারের শুরু। তিনি আরও জানান যে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অর্ডিন্যান্স ২০২৫ গেজেটেড হয়েছে এবং খুব শিগগিরই নির্যাতনবিরোধী জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গঠিত হবে।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “প্রত্যেক ব্যক্তির মর্যাদা কেবল নীতিগতভাবে নয়, বাস্তবেও সুরক্ষিত হতে হবে।”
বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংলি সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারগুলো যেন কার্যকর ও টেকসই ফলাফলে রূপান্তরিত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
জেনেভা ভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রিভেনশন অফ টর্চার এর সিনিয়র অ্যাডভাইজার বেন বাকল্যান্ড মূল বক্তব্য দেন এবং অন্যান্য দেশে নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় ব্যবস্থার আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
প্যানেল আলোচনায় OHCHR বাংলাদেশের মিশন প্রধান হুমা খান একটি স্বাধীন, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ ল-এর অধ্যাপক ড. সাইরা রহমান খান জোর দিয়ে বলেন, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থাই ফলপ্রসূ হবে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘের উইংয়ের পরিচালক মো. আব্দুল ওয়াদুদ আকন্দ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতার প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। সেমিনার শেষে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
