
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব এইডস দিবস, যার এবারের প্রতিপাদ্য হলো: ‘সব বাধা দূর করি, এইডসমুক্ত সমাজ গড়ি’। দিবসটি পালিত হলেও দেশে এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তাদের জন্য সমন্বিত চিকিৎসার অভাব প্রকট হচ্ছে। হৃদরোগ, ক্যান্সার বা অস্ত্রোপচার—প্রায় সব ক্ষেত্রেই এইডস রোগীরা চিকিৎসাবৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত বছর এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৪৩৮ জন, যা চলতি বছর দেড় হাজার পেরিয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যাও প্রায় দুই শর কাছাকাছি। দেশে এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজারের বেশি এবং জীবিত রোগীর সংখ্যা ১১ হাজারের অধিক।
চিকিৎসায় বৈষম্য ও তথ্য গোপন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে এআরটি (অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি) সহজলভ্য হলেও এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের বহু রোগ ব্যবস্থাপনার জন্য হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত সুবিধা গড়ে ওঠেনি। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে রোগ গোপন রেখে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যা তাঁদের নিজেদের পাশাপাশি অন্যদেরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। সামাজিক কুসংস্কারই এই বৈষম্যের অন্যতম কারণ। অথচ সাধারণ স্পর্শ বা হাঁচি-কাশিতে এইচআইভি ছড়ায় না।
মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আরিফুল বাশার বলেন, “এসব রোগীর মৃত্যুর প্রধান কারণ সাধারণ সংক্রমণ। জটিল রোগীদের চিকিৎসায় আমাদের এমআরআই, বায়োপসি, ডায়ালিসিসসহ জরুরি পরীক্ষা এবং অ্যাডভান্সড অ্যান্টিবায়োটিকের সরবরাহ নেই, যা বড় চ্যালেঞ্জ।”
আক্রান্তের প্রবণতা ও সংকট
২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের ৭৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৬৩ শতাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা, এরপর সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে শনাক্ত হয়েছে। মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তথ্যমতে, তাদের রোগীদের মধ্যে ৪০ শতাংশ পুরুষ সমকামী এবং ৫০ শতাংশ প্রবাসী শ্রমিক। কনসালট্যান্ট ডা. এ আর এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, নৈতিক অবক্ষয়, ধর্মীয় জীবনব্যবস্থা থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব পুরুষ সমকামী এইডস রোগী বাড়ার অন্যতম কারণ।
দেশে বর্তমানে ২৭টি কেন্দ্রে এইচআইভি শনাক্তকরণ এবং ১৩টি কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে সরকারি পর্যায় ছাড়া বেসরকারি হাসপাতালে এইচআইভি চিকিৎসা প্রায় নেই বললেই চলে। নারায়ণগঞ্জের একজন রোগী সাদ্দাম (ছদ্মনাম) অভিযোগ করেন, অনেক সরকারি হাসপাতালেই ভোগান্তি থাকলেও বেসরকারি হাসপাতালগুলো প্রায়শই চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

