
ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া জেন-জি বিক্ষোভের ঢেউ এবার আছড়ে পড়েছে জার্মানিতে। দেশটির রাজধানী বার্লিনসহ ৩০টির বেশি শহরে রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো এবং সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিরোধিতায় শনিবার (৩১ অক্টোবর) এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে জানিয়েছে, রাজধানী বার্লিনের ঐতিহাসিক ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের পশ্চিম পাশের একটি চত্বরে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
‘জেন জেড রেগেল্ট’ নামের একটি জোট এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশটির ৩৪টি শহরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। ফ্রাঙ্কফুর্ট, কোলন, মিউনিখ ও বার্লিন ছিল বিক্ষোভের প্রধান কেন্দ্র।
জার্মান পুলিশের হিসাবে, শুধু বার্লিনেই প্রায় ৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। তবে আয়োজকদের দাবি, সেখানে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ হাজার। দেশজুড়ে এক লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে আয়োজক জোট।
জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ছয়টি প্রধান দাবির মধ্যে ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধিতা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকার শিক্ষা ও সামাজিক সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় কমাচ্ছে। অথচ সামরিক খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করছে।
হ্যানোভার থেকে বার্লিনে বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা ২৩ বছর বয়সী রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ভেরোনিকা ডিন্টার বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পড়াশোনার খরচ চালাতে তাকে খণ্ডকালীন চাকরি করতে হচ্ছে। তার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর্থিক সংকটে পড়ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে এবং শিক্ষকরা চাকরি হারাচ্ছেন। অথচ এসব সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সরকার সামরিক খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে।
বার্লিনের ২৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী এমা হেইমানও সরকারের ব্যয়নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, সামরিক খাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি গাজায় গণহত্যায় অর্থায়ন করছে জার্মানি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি, স্পেন ও সার্বিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় জার্মানিতেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব কনস্টানৎসের ফিউচার অব ওয়ার্ক ল্যাবের জ্যেষ্ঠ গবেষক কিলিয়ান হ্যাম্পেল বলেন, তরুণদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ জমছিল। ইউরোপের অন্যান্য দেশের বিক্ষোভ তাদের নিজেদের দাবি নিয়ে রাস্তায় নামতে উৎসাহিত করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত দুরবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগও গুরুত্বের সঙ্গে শোনা প্রয়োজন।
এদিকে বার্লিনে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোলনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বার্লিন পুলিশ জানিয়েছে, দিনের বেলায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল।
